একটি শিশু জন্মগতভাবেই এক অসাধারণ সুপারপাওয়ার নিয়ে আসে: সীমাহীন কৌতূহল। চোখ বড় বড় করে সে চারপাশ দেখে, নতুন নতুন শব্দ শেখার চেষ্টা করে, এবং অবিশ্বাস্য দ্রুততায় জটিল ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠে। অথচ মাত্র কয়েক বছর পরেই সেই একই প্রাণবন্ত শিশু প্রায়শই উদ্বেগের এক সমষ্টিতে পরিণত হয়। কেন? কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং সামাজিক চাপ পদ্ধতিগতভাবে তার স্বকীয়তাকে গলা টিপে হত্যা করে।
Key Takeaways
- npj Science of Learning-এর ২০২৬ গবেষণা অনুযায়ী, মুখস্থ বিদ্যার চাপ শিশুদের কৌতূহল কমাতে পারে।
- বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ৫৩.৮% অবসাদে ভোগে (Scientific Reports, ২০২৪)।
- ভারতের ওড়িশায় ৬৩% শিক্ষার্থী জানিয়েছে তাদের ক্যারিয়ার পিতা-মাতার চাপে বেছে নিতে হয়েছে (National Journal of Environment and Scientific Research, ২০২৩)।
- পাল্টাতে হলে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি, ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগ এবং স্বাধীন ক্যারিয়ার পছন্দ ফিরিয়ে আনতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি কী? — শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যা
২০২৬ সালে npj Science of Learning-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে, যখন শিক্ষা মুখস্থ বিদ্যায় নির্ভরশীল হয়, তখন কৌতূহল বাড়ানোর বদলে তা হ্রাস পেতে পারে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; এটি আমাদের শিক্ষা-কাঠামোর মূল ত্রুটি।
এই ব্যবস্থায় শিশুদের কঠোর সিলেবাসের মধ্যে আটকে রাখা হয়। তাদের “কেন” জিজ্ঞাসা করার সুযোগ কম। শিক্ষক কেন্দ্রিক শ্রেণিকক্ষে শিশুরা শোনে, লেখে এবং মুখস্থ করে। পরীক্ষার ফলাফলই একমাত্র মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শেখা আর আনন্দের বিষয় নয়, বরং একটি চাপময় প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়।
Citation Capsule: npj Science of Learning, ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, মুখস্থ বিদ্যার প্রাধান্য কৌতূহলকে দমিয়ে রাখে। যখন শিশুরা “কেন” জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পায় না, তখন শেখা কেবল তথ্য গিলে ফেলার প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো শিক্ষক কেন্দ্রিক পদ্ধতি প্রাধান্য পায়। এখানে শিশুরা প্রশ্ন করলে অনেক সময় বিরক্তি বা শাসনের মুখোমুখি হন। অথচ একজন কৌতূহলী শিশুর প্রশ্নই তার মন বড় হওয়ার প্রথম চিহ্ন। সেই প্রশ্নগুলোকে যখন অপ্রাসঙ্গিক বলে দমন করা হয়, তখন মনটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।
কৌতূহলের মৃত্যু কীভাবে ঘটে? — রোট লার্নিং বনাম বোঝাপড়া
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাংকের India – Learning Poverty Brief অনুযায়ী, ভারতে ৫৬% এবং দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে ৫৯% দেরি-প্রাথমিক বয়সী শিশু বয়সোচিত ছোট একটি পাঠ্য বুঝতে পারে না। এর অর্থ, মুখস্থ বিদ্যা বোঝাপড়ার বদলে আমাদের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
যখন শিশুরা বোঝে না, তখন তারা কেবল মুখস্থ করে। তারা জানে ২+২=৪, কিন্তু জানে না কেন। তারা পরীক্ষার খাতায় সঠিক উত্তর লিখতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনে একই সমস্যার সমাধান করতে হিমশিম খায়। এই পার্থক্যই রোট লার্নিং এবং কনসেপচুয়াল লার্নিংয়ের মধ্যে পার্থক্য।
বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালে জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ৫৯% শিশু বয়সোচিত পাঠ্য বুঝতে পারে না। যখন বোঝা হয় না, তখন শিক্ষা শুধুই মুখস্থতার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়।
এই পদ্ধতিতে ভুল করার কোনো স্থান নেই। ভুল মানে নম্বর কমা, রোল কমা, মান কমা। কিন্তু বাস্তবে ভুলই তো শেখার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়। যখন একটি শিশুকে ভুল করতে দেওয়া হয় না, তখন সে নতুন কিছু আবিষ্কারের সাহস হারিয়ে ফেলে। তার কৌতূহল মরে যায়, এবং তার জায়গায় ব্যর্থতার ভয় বাসা বাঁধে।
ভয় ও কলঙ্কের সংস্কৃতি কীভাবে তৈরি হয়?
২০২৪ সালে WHO/Europe-এর Health Behaviour in School-aged Children (HBSC) প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের ৬৩% এবং কিশোরদের ৪৩% স্কুলের কাজের চাপে ভোগে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই চাপ ২০১৮ সালের ৫৪% থেকে বেড়ে ২০২১/২২-এ ৬৩% হয়েছে।
আমাদের সমাজে শিক্ষাকে প্রায়শই ভয়-ভিত্তিক প্রণোদনার মাধ্যমে চালানো হয়। ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়, শারীরিক শাস্তি, সামাজিক বিচার এবং অপমান — এগুলো তরুণ মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। মোটিভেশন বা আগ্রহের বদলে, শিক্ষার্থীরা ভয়ে পড়াশোনা করে।
WHO/Europe ২০২৪ সালে জানিয়েছে, ১৫ বছর বয়সী কিশোরীদের ৬৩% স্কুলের চাপে আছেন। এই চাপের উৎস কেবল পাঠ্যবই নয়, ব্যর্থতাকে কলঙ্ক হিসেবে দেখার সংস্কৃতিও।
অনেক পরিবারে শোনা যায়: “পরীক্ষায় ভালো না করলে জীবন শেষ।” এই কথাগুলো অতি সামান্য মনে হলেও তরুণ মনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। ভুলকে শেখার ধাপ হিসেবে দেখার পরিবর্তে, তাকে ব্যক্তিগত ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে ঘুম হারায়, খাবার হজম করতে পারে না এবং নিজেদের অপর্যাপ্ত বলে মনে করতে শুরু করে।
বাবা-মা ও সমাজ কীভাবে ধার করা স্বপ্ন চাপিয়ে দেয়?
২০২৩ সালে ভারতের ওড়িশায় এক গবেষণায় দেখা যায়, ৬৩% শিক্ষার্থী বলেছেন তাদের বর্তমান বিষয় বা ক্যারিয়ার পিতা-মাতার চাপে বেছে নিতে হয়েছে। ৯৩% পিতা-মাতা তাদের সন্তানের জন্য ক্যারিয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, ৬৮% শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট এবং ৬২% তাদের সিদ্ধান্তে অনুতপ্ত।
এই চাপ কেবল স্কুলে সীমাবদ্ধ নয়। বাড়িতেও চলে একই নাটক। ফিল্মমেকিং বা শিল্পকলায় আগ্রহী একজন শিক্ষার্থীকে প্রায়শই মেডিসিন বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো “নিরাপদ” ক্যারিয়ারে ঠেলে দেওয়া হয়। যে শিশুর হাতে ক্যামেরা তুলে দেওয়া উচিত ছিল, তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় স্টেথোস্কোপ।
ওড়িশা, ভারতের ২০২৩ গবেষণায় ৬৩% শিক্ষার্থী জানিয়েছে তাদের ক্যারিয়ার পিতা-মাতার চাপে নির্ধারিত। যখন স্বপ্ন ধার করা হয়, তখন পেশাগত সন্তুষ্টি হারিয়ে যায়।
পিতা-মাতার অহংকারও এখানে কাজ করে। অনেক সময় সন্তানদের তাদের পিতামাতা বা আত্মীয়দের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে বাধ্য করা হয়। আর যদি কেউ প্রতিবাদ করতে চায়, তাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের মুখোমুখি হতে হয়। “তোমাকে পড়ানোর জন্য আমরা সব ত্যাগ করেছি” — এই কথাগুলো তরুণদের এমন এক কোণঠাসা অবস্থায় ফেলে দেয়, যেখান থেকে পালাতে পারে না।
জোরপূর্বক ক্যারিয়ারের মানসিক পরিণতি কী? — “জ্যান্ত লাশ”
২০২৪ সালে Scientific Reports-এ বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের উপর গবেষণায় দেখা যায়, ৫৩.৮% অবসাদে এবং ৩৩.২% উদ্বেগে ভোগে। যারা বারবার পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের অবসাদের হার ৫৯.০% এবং উদ্বেগের হার ৪০.৩%।
যখন কারো কৌতূহল কেড়ে নেওয়া হয়, ব্যর্থ হওয়ার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং এমন একটি পথে বাধ্য করা হয় যা তারা গভীরভাবে অপছন্দ করে, তখন পরিণতি ধ্বংসাত্মক হয়। কয়েক মাস বা বছর পর আসল বাস্তবতা সামনে আসে। ফিরে আসার কোনো উপায় না থাকায়, অনেকে “জ্যান্ত লাশে” পরিণত হন।

বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ৫৩.৮% অবসাদে ভোগে, জানায় ২০২৪ সালের Scientific Reports। যখন শেখার আনন্দ হারিয়ে যায়, তখন জীবন একঘেয়ে টিকে থাকার সংগ্রামে পরিণত হয়।
এটি শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, এটি অস্তিত্বের সংকট। মানুষ নিজের জীবনের থ্রিলার মুভিতে নিছক একটি ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যারেক্টার হয়ে যায়। তারা নিজেদের গল্পেই নিজেদের হারিয়ে ফেলে। কাজে যান, টিকে থাকেন, কিন্তু কখনোই নিজের পছন্দের জীবন পান না।
এই ছক ভাঙতে কী করা যায়? — ব্যবহারিক পথ
২০২৪ সালে J-PAL ও American Economic Review-এ প্রকাশিত তুরস্কের এক গবেষণায় দেখা যায়, কৌতূহল-ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিশুদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ৭.৮% বাড়িয়ে দেয় এবং তাদের বিজ্ঞানের পরীক্ষার ফল ০.০৭ স্ট্যান্ডার্ড ডেভিয়েশন বাড়ায়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই ফলাফল তিন বছর পরেও টিকে ছিল। অর্থাৎ, পরিবর্তন সম্ভব।
প্রথম পদক্ষেপ: প্রশ্ন করাকে পুরস্কৃত করতে হবে। শিশু যখন “কেন” জিজ্ঞাসা করে, তখন তাকে বিরক্ত না করে সম্মানের সাথে উত্তর দিতে হবে। দ্বিতীয় পদক্ষেপ: ব্যর্থতাকে শেখার ধাপ হিসেবে দেখতে হবে। পরীক্ষায় কম নম্বর পেলে শিশুকে অপমানিত না করে, তার ভুলগুলো থেকে শেখার সুযোগ দিতে হবে। তৃতীয় পদক্ষেপ: ক্যারিয়ার পছন্দে শিশুর আগ্রহ ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, পিতা-মাতার অপূর্ণ স্বপ্নকে নয়।
J-PAL ও American Economic Review ২০২৪ সালে দেখিয়েছেন, কৌতূহল-ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিশুদের বিজ্ঞান আগ্রহ ৭.৮% বাড়ায়। সঠিক পদ্ধতিতে কৌতূহলকে লালন করা যায়।
পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রয়োজন সন্তানের পথ নির্ধারণ করা নয়, বরং তার পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করা। যখন একটি শিশু নিজের আগ্রহ অনুযায়ী কিছু করতে পারে, তখন সে শুধু ভালো করে না, সে বেঁচে থাকে।
ভবিষ্যৎ কী রাখছে? — আশার আলো
OECD-এর সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতা জরিপে দেখা যায়, ১০ বছর বয়সীদের তুলনায় ১৫ বছর বয়সীরা কম সৃজনশীল এবং কম কৌতূহলী বলে প্রতিবেদন করে। এই পতন বিশেষ করে এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থাগুলোতে তীব্র।
তবে এখনো সময় আছে। AI যুগে রোট লার্নিংয়ের মূল্য কমে যাচ্ছে। মেশিন তথ্য মুখস্থ করতে পারে, কিন্তু মানুষের কাজ হলো প্রশ্ন করা, সংযোগ স্থাপন করা এবং সৃজনশীলতা। সুতরাং, ভবিষ্যতে সফল হতে হলে আমাদের কৌতূহল এবং স্বকীয়তাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
OECD-এর সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতা জরিপে ১৫ বছর বয়সীরা ১০ বছর বয়সীদের তুলনায় কম সৃজনশীল বলে প্রতিবেদন করেছে। এই পতনকে ঠেকাতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিক্ষা-নীতিতে পরিবর্তন দরকার। কিউরিকুলামে ক্রিটিকাল থিংকিং, ক্রিয়েটিভিটি এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু তার আগে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের মনোভাব পাল্টাতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে, একটি শিশুর জীবন তার নিজের, পিতা-মাতার নয়।
Frequently Asked Questions
শিক্ষাব্যবস্থা কীভাবে কৌতূহল হত্যা করে?
npj Science of Learning-এর ২০২৬ গবেষণা অনুযায়ী, মুখস্থ বিদ্যার চাপ কৌতূহল কমাতে পারে। যখন শিশুরা প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না এবং পরীক্ষার ফলই একমাত্র মাপকাঠি হয়, তখন তাদের স্বাভাবিক কৌতূহল মরে যায়।
বাংলাদেশে ছাত্র উদ্বেগ কতটা widespread?
Scientific Reports-এর ২০২৪ গবেষণায় বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের ৫৩.৮% অবসাদে এবং ৩৩.২% উদ্বেগে ভোগে। BMJ Open-এর ২০২৫ গবেষণায় বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩৩.২% অবসাদ এবং ২৯.০% উদ্বেগে থাকার কথা জানিয়েছে।
পিতা-মাতার চাপে ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া কতটা সাধারণ?
ভারতের ওড়িশায় ২০২৩ সালের এক গবেষণায় ৬৩% শিক্ষার্থী বলেছেন তাদের ক্যারিয়ার পিতা-মাতার চাপে নির্ধারিত। বাংলাদেশের এক ২০২৫ গবেষণায় ৬২% শিক্ষার্থী জানিয়েছে পরিবার তাদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রেখেছে। (মেজর নির্বাচক টুল দিয়ে সঠিক ক্যারিয়ার খুঁজে নিন – এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইড)
ব্যর্থতাকে কীভাবে শেখার সুযোগে রূপান্তর করা যায়?
CBE—Life Sciences Education-এর ২০২১ গবেষণায় ৮২% শিক্ষার্থী বলেছেন সামাজিক চাপ তাদের ব্যর্থতার ভয় বাড়ায়। ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগে রূপান্তর করতে হলে ভুলকে অপমান নয়, বরং পুনরায় চেষ্টার ধাপ হিসেবে দেখতে হবে।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর প্রথম পদক্ষেপ কী?
J-PAL-এর ২০২৪ গবেষণা দেখিয়েছে, কৌতূহল-ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের ফলাফল দীর্ঘমেয়াদি। প্রথম পদক্ষেপ হলো শিশুদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা, তাদের আগ্রহকে সম্মান দেওয়া এবং ক্যারিয়ার পছন্দে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা।
Conclusion
শিশুরা জন্মগতভাবে কৌতূহলী। কিন্তু আমাদের কঠোর শিক্ষাব্যবস্থা, ভয়-ভিত্তিক প্রণোদনা এবং সামাজিক চাপ তাদের সেই কৌতূহল কেড়ে নেয়। ফলে তারা উদ্বিগ্ন, হতাশ এবং নিজেদের জীবনে পার্শ্বচরিত্র হয়ে যায়। পরিবর্তন সম্ভব, কিন্তু তার জন্য আমাদের মনোভাব পাল্টাতে হবে।
কী নিয়ে কাজ করতে পারেন আজ থেকেই:
- শিশুদের প্রশ্ন করার স্বাধীনতা দিন।
- ব্যর্থতাকে শেখার ধাপ হিসেবে দেখুন।
- নিজের এবং অন্যের স্বপ্নকে আলাদা করুন।
- ক্যারিয়ার পছন্দে তাদের আগ্রহ ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিন।
নিজের জীবনের চিত্রনাট্য নিজেকেই লিখতে হবে। সেটির জন্য প্রথমে নিজেকে খুঁজে বের করতে হবে।
Sources
- npj Science of Learning, Question asking practice fosters aspects of curiosity in science content in young children, retrieved 2026-06-17, https://www.nature.com/articles/s41539-025-00384-5
- J-PAL / American Economic Review, Nurturing Childhood Curiosity to Enhance Learning: Evidence from a Randomized Pedagogical Intervention, retrieved 2026-06-17, https://www.povertyactionlab.org/evaluation/nurturing-curiosity-enhance-learning-turkey
- World Bank, India – Learning Poverty Brief 2024, retrieved 2026-06-17, https://documents.worldbank.org/en/publication/documents-reports/documentdetail/099090524113131044
- WHO/Europe, Rising school pressure and declining family support especially among girls (HBSC 2021/22), retrieved 2026-06-17, https://www.who.int/europe/news/item/13-11-2024-rising-school-pressure-and-declining-family-support-especially-among-girls–finds-new-who-europe-report
- Scientific Reports, Prevalence and factors associated with depression and anxiety among the Bangladeshi university entrance test-taking students using GIS technology, retrieved 2026-06-17, https://link.springer.com/article/10.1038/s41598-024-72235-z
- BMJ Open, Factors influencing mental health outcomes among university students: a cross-sectional study in Bangladesh, retrieved 2026-06-17, https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC11881177/
- National Journal of Environment and Scientific Research, Imposed Career-Choices By Parents Influence Academic Achievements And Mental Health Of Student, retrieved 2026-06-17, https://www.njesr.com/post/imposed-career-choices-by-parents-influence-academic-achievements-and-mental-health-of-student
- OECD, Social and Emotional Skills for Better Lives (SSES 2023 results), retrieved 2026-06-17, https://www.oecd.org/en/publications/social-and-emotional-skills-for-better-lives_35ca7b7c-en.html
- CBE—Life Sciences Education, Science students’ perspectives on how to decrease the stigma of failure, retrieved 2026-06-17, https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC8727946/
- Indonesian Journal of Social Sciences, Factors influencing public university students’ career choice: Lesson learned from Bangladesh, retrieved 2026-06-17, https://doi.org/10.20473/ijss.v17i2.66650



























