গ্রীষ্মের দাবদাহে জীবন তখন ওষ্ঠাগত। আমাদের ছোট্ট মহারাজের দৌলতে বাসার স্পিকারে দিনরাত বেজে চলেছে “বেবি শার্ক ডু ডু ডু ডু”। বাচ্চার সাথে খেলতে খেলতে এবং একই গান হাজারবার শুনতে শুনতে যখন আমরা প্রায় আধপাগল, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, নাহ! আর নয়। এবার কিছু করা দরকার।
কিন্তু বাইরে বেরোনোও তো সহজ কথা নয়! গাড়ির বাইরে পা রাখলেই মনে হচ্ছে যেন তন্দুরি চিকেন হয়ে যাব। তাই ঠিক হলো, লং ড্রাইভে যাওয়া যাক। এসি চালিয়ে গাড়ির ভেতরে বসে থাকব, কিন্তু অন্তত দৃশ্যপট তো বদলাবে! যেই ভাবা সেই কাজ। স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়ি চলল অজানার পথে, আর সেই পথ আমাদের নিয়ে ফেলল সোজা উলসানের সমুদ্র তীরে।
শহর থেকে এখানকার আবহাওয়াটা বেশ আরামদায়ক। গরমের সেই রুদ্রমূর্তি এখানে নেই। তাই গাড়ি থেকে নেমে সোজা সৈকতের দিকে হাঁটা দিলাম। আমাদের সাহেবজাদা তো সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ দেখে প্রথমে গেলেন ঘাবড়ে। সে কী ভয়! যেন এক্ষুনি গিলে ফেলবে। কিন্তু তার ভয় ভাঙল বালিতে পা রাখার পর। ঢেউয়ের গর্জন ভুলে সে বালির মধ্যেই নিজের সুইমিং পুল আবিষ্কার করে ফেলল। তারপর শুরু হলো তার বিখ্যাত বালিতে গড়াগড়ি সেশন। কিছুক্ষণ পর দেখলাম, আমরা তিনজন মানুষ না, যেন বালির তৈরি তিনটা মূর্তি দাঁড়িয়ে আছি। আপাদমস্তক বালিতে মাখামাখি হয়ে হোটেলে রাত কাটানো ছাড়া আর কোনো উপায় রইল না।
পরদিন সকালে উঠেই আবার গেলাম সমুদ্রের কাছে। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় সমুদ্রের রূপ ছিল দেখার মতো। কিছুক্ষণ বালিতে সাঁতার কেটে আমরা হোটেল ছাড়লাম। এবার ধরলাম উলসানের বিখ্যাত উপকূলীয় রাস্তা। একদিকে ঝকঝকে নীল সমুদ্র, আর অন্যদিকে চকচকে রোদ্দুর—মনটা একেবারে ফুরফুরে হয়ে গেল। গাড়ি চলছে তো চলছেই, আমরাও প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছি।
কিন্তু এই সুখ বেশিক্ষণ সইল না। আমাদের ভ্রমণসঙ্গীর ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেল। গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে সে চূড়ান্ত বিরক্ত। তার একটাই বায়না, “বাড়ি চলো, বাড়ি চলো!” অগত্যা, আমাদের ট্রিপের সমাপ্তি ঘোষণা করতে হলো। ছোট্ট বসের হুকুম তো আর অমান্য করা যায় না!
হুট করে বেরিয়ে পড়া এই ছোট্ট ভ্রমণটা ছিল সত্যিই অসাধারণ। যদিও এর শুরুটা হয়েছিল ‘বেবি শার্ক’ থেকে পালানোর জন্য আর শেষটা হলো বাচ্চার বাড়ি ফেরার বায়নায়, মাঝখানের স্মৃতিগুলো অবশ্যই মনে রাখার মতো।
ট্রাভেল টিপস: উলসানের উপকূলীয় রাস্তায় ড্রাইভ করার সময় ছোট ছোট বিরতি নিন। বাচ্চারা দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকতে পছন্দ করে না। তাদের জন্য স্ন্যাকস আর খেলনা সাথে রাখুন।কেন উলসানের সমুদ্র সৈকত বাচ্চাদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আদর্শ?
- শান্ত পরিবেশ: উলসানের সৈকত তুলনামূলকভাবে কম ভিড়, তাই বাচ্চাদের সাথে আরামে সময় কাটানো যায়।
- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: নীল সমুদ্র, নরম বালি, আর ঠান্ডা হাওয়া—সব মিলিয়ে একটা পারফেক্ট ছুটির গন্তব্য।
- সহজে পৌঁছানো যায়: উলসানের উপকূলীয় এলাকায় গাড়িতে করে সহজেই পৌঁছানো যায়, বিশেষ করে যদি আপনি লং ড্রাইভ পছন্দ করেন।






































