ইসলামী ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) ক্যালকুলেটর
বই: Distribution of Wealth in Islam (written by Mufti Muhammad Shafi.) ও MFLO ১৯৬১ অনুযায়ী
সতর্কতা: এটি একটি সাধারণ ক্যালকুলেটর। জটিল উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞ মুফতির পরামর্শ নিন।
আমি যখন প্রথম লক্ষ্য করলাম, অনেক শিক্ষিত মুসলিমও উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে ফরায়েজের সঠিক হিসাব করতে হিমশিম খান, তখন বুঝলাম এই সমস্যাটি কেবল ফিকহি জ্ঞানঘাটতির নয়, বরং প্রযুক্তিগত সহায়তারও অভাব। বাজারে কিছু ইংরেজি টুল থাকলেও, বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের আইন এবং হানাফি ফিকহ – এই তিনটিকে একসাথে নিয়ে কাজ করে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান আমি পাইনি।
এই শূন্যতা থেকেই আমি ধীরে ধীরে একটি ওয়েবভিত্তিক বাংলা ইসলামি উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর ডিজাইন ও ডেভেলপ করার সিদ্ধান্ত নিই। আমার লক্ষ্য ছিল এমন একটি টুল তৈরি করা, যা একদিকে আল্লাহর নির্ধারিত ফরায়েজের বিধানকে সম্মান করে, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে Muslim Family Laws Ordinance (MFLO) 1961–কে প্রযুক্তিগতভাবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।
ধারণা থেকে বাস্তবায়ন: শরিয়াহ, আইন এবং ব্যবহারকারী
প্রথম ধাপেই আমি পরিষ্কার করছি যে, এই অ্যাপ কেবল মানুষের “সুবিধার” জন্য নয়, বরং “আমানত” পূরণের জন্য তৈরি হবে। Distribution of Wealth in Islam গ্রন্থকে আমি মূল রেফারেন্স হিসেবে নিয়েছি, যেখানে সম্পদের মালিকানা ও বণ্টনের দর্শন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে থেকে আমি ইসলামিক উত্তরাধিকার বিষয়ে কয়েকটি মূল নীতি সম্পর্কে জানি:
- সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ, মানুষ কেবল আমানতদার।
- বণ্টনের নিয়মে ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা খুব সীমিত; নির্দিষ্ট অংশগুলো আল্লাহর হুকুম।
- দরিদ্র ও দূর্বল আত্মীয়দের হক কেবল “দয়া” নয়, বরং প্রকৃত “অধিকার”।
এরপর আমি বাংলাদেশের আইনি প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করি। MFLO 1961–এর ৪ নম্বর ধারা এতিম নাতি–নাতনিদের অংশ নিয়ে ক্লাসিক হানাফি ফিকহ থেকে ভিন্ন একটা বাধ্যতামূলক বিধান দেয়। তাই শুরু থেকেই আমি ধরে নিয়েছিলাম, webapp-টিকে দ্বৈত মোডে কাজ করাতে হবে –
- একদিকে “ক্লাসিক শরিয়াহ হিসাব”
- অন্যদিকে “বাংলাদেশি আইন অনুসারে হিসাব”
এই প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ইসলামী ফারায়েয (উত্তরাধিকার) আইন। আমি এটিকে এমনভাবে তৈরি করেছি যাতে সফটওয়্যারটি একজন অভিজ্ঞ আলেমের মতো ধাপে ধাপে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে—তবে পুরোপুরি প্রোগ্রামিং ভাষায়।
তবে অত্যন্ত জটিল উত্তরাধিকারের মামলায় অবশ্যই বিজ্ঞ মুফতি বা ফারায়েয বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। আমি নিজে একজন সাধারণ মানুষ এবং এই গভীর ইলমে ফারায়েযে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না থাকার কারণে আমার তৈরি করা ওয়েব আপে ভুল-ভ্রান্তি থেকে যেতে পারে। সেসব ভুলত্রুটি সংশোধন করে, আরও সঠিক ও সহজবোধ্য করে যাতে ইসলামী উত্তরাধিকার আইন সাধারণ মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়—এই বিষয়ে আপনাদের যেকোনো মূল্যবান পরামর্শ, সংশোধনী বা দিকনির্দেশনা সবসময় আন্তরিকভাবে গ্রহণযোগ্য থাকবে।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।
চার স্তরের প্রাক্প্রক্রিয়া
প্রথমেই আমি শরিয়াহ নির্ধারিত চারটি ধাপকে অ্যালগরিদমে পরিণত করি:
- কাফন–দাফনের খরচ বাদ দেয়া আমি Net_Estate হিসাবের আগে “Funeral_Cost” নামের ইনপুট ফিল্ড থেকে খরচ বাদ দিচ্ছি। সিস্টেম ইনপুটকে “মিতব্যয়ী” হওয়ার পরামর্শ দেয়, যাতে ব্যবহারকারী বুঝতে পারে বাড়াবাড়ি করলে তা শরিয়াহসম্মত নয়।
- সব দেনা পরিশোধ এরপর আমি “Debt” ফিল্ডে আলাদা ভাবে
- আল্লাহর হক (বাকি যাকাত, কাফফারা, হজ খরচ)
- মানুষের হক (ঋণ, মহরানা, ইত্যাদি) যুক্ত করেছি। বিশেষভাবে “বাকি মহর আছে কি?” – এই প্রশ্নটি আমি বাধ্যতামূলক করেছি, কারণ অনেকেই এটি ভুলে যান।
- ওসিয়ত পরীক্ষা আমি অ্যালগরিদমে প্রথমে Net_Estate বের করি, তারপর তার এক–তৃতীয়াংশকে সর্বোচ্চ ওসিয়তের সীমা হিসেবে নির্ধারণ করি। ব্যবহারকারী এর বেশি ইনপুট দিলে সিস্টেম সরাসরি সতর্ক বার্তা দেয়, একই সঙ্গে ওয়ারিশদের সম্মতির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানায়।
- এরপরই শুরু হয় উত্তরাধিকার বণ্টন উপরের সব বাদ দিয়ে যে Distributable Estate থাকে, সেটিকেই আমি ফরায়েজ ইঞ্জিনে পাঠাই।
শেয়ারধারী, আসাবা ও দূর–আত্মীয়ের নিয়ম
আমি প্রথমে ডেটাবেইস স্কিমায় ওয়ারিশদের তিন ভাগে ভাগ করেছি:
- নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত (আহলে ফুরুজ, ১২ জন),
- আসাবা (যারা অবশিষ্ট পায়),
- দূর–আত্মীয় (জুইল আরহাম)।
আমি প্রতিটি আত্মীয়ের জন্য শর্তযুক্ত টেবিল তৈরি করেছি, যেমন:
- “স্ত্রী আছে কি?”
- “সন্তান থাকলে স্ত্রীর অংশ কত হবে?”
- “কন্যা একা আছে, না একাধিক, না কি পুত্রও আছে?”
এই শর্তগুলো আমি প্রোগ্রামিং কন্ডিশন হিসেবে লিখেছি, যাতে কন্যা এক পরিস্থিতিতে শেয়ারধারী, আবার অন্য পরিস্থিতিতে আসাবা হয়ে যায়।
MFLO 1961 ধারা ৪: Representation অ্যালগরিদম
বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে জটিল অংশ ছিল ধারা ৪–এর “Doctrine of Representation” বাস্তবায়ন। আমি এটি তিন ধাপের একটি সিমুলেশন হিসেবে লিখেছি:
- প্রথমে আমি চেক করি, কোনো predeceased_son বা predeceased_daughter আছে কি না, যাদের সন্তান জীবিত আছে।
- থাকলে আমি ঐ মৃত সন্তানকে “ভার্চুয়াল ওয়ারিশ” হিসেবে যুক্ত করে একটি পূর্ণ ফরায়েজ হিসাব চালাই।
- সেই ভার্চুয়াল ওয়ারিশের প্রাপ্য অংশকে তার সন্তানদের মধ্যে per stirpes ভিত্তিতে বণ্টন করি এবং এই অংশটিকে মূল Distributable Total থেকে কেটে রাখি।
এইভাবে আমি একই বাংলা ইসলামি উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর–এর ভেতরেই শরিয়াহ ও বাংলাদেশি আইনের সমন্বিত হিসাব সম্ভব করেছি, ব্যবহারকারী শুধু একটি টগল সুইচ দিয়ে পছন্দ নির্বাচন করেন।
ওয়ারিশ শ্রেণিবিন্যাস: ডাটাবেইস কাঠামো
সিস্টেমকে প্রত্যেক আত্মীয়কে তিনটি মূল শ্রেণির একটির অধীনে রাখতে হবে। প্রক্রিয়াকরণের অগ্রাধিকার হবে কড়াকড়িভাবে:
১) নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত (শেয়ারধারী/আহলে ফুরুজ),
২) আসাবা (Residuaries),
৩) দূর-আত্মীয় (জুইল আরহাম)।
নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত ওয়ারিশ (আহলে ফুরুজ)
এরা ১২ ধরনের আত্মীয়, যাদের অংশ কুরআনে সুনির্দিষ্ট ভগ্নাংশ হিসেবে উল্লেখ আছে।⁸ উত্তরাধিকার আইনে এদের প্রথম সারির নাগরিক বলা যায়।
টেবিল ১: ১২ জন শেয়ারধারী ও তাদের অংশের যুক্তি (সংক্ষিপ্ত)
| Heir ID | সম্পর্ক (ইংরেজি) | বাংলা পরিভাষা | মূল অংশের যুক্তি ও শর্ত |
|---|---|---|---|
| H | Husband | স্বামী | স্ত্রীর কোনো সন্তান/নাথি না থাকলে ১/২, সন্তান/নাথি থাকলে ১/৪। |
| W | Wife | স্ত্রী | স্বামীর কোনো সন্তান/নাথি না থাকলে ১/৪, থাকলে ১/৮। একাধিক স্ত্রী হলে এ অংশ ভাগ হবে। |
| F | Father | বাবা/পিতা | সাধারণত ১/৬। কেবল কন্যা থাকলে ১/৬ + বাকি অংশের আসাবা। সন্তান না থাকলে পুরো আসাবা হয়ে যান। |
| M | Mother | মা/মাতা | সাধারণত ১/৬। সন্তান না থাকলে এবং একাধিক ভাই-বোন না থাকলে ১/৩ (উমারিয়্যাত কেস)। |
| D | Daughter | কন্যা/মেয়ে | একমাত্র হলে ১/২; দুই বা ততোধিক হলে মোট ২/৩ ভাগে ভাগাভাগি; পুত্র থাকলে আর শেয়ারধারী নয়, তখন আসাবা, অনুপাত ছেলে:মেয়ে = ২:১। |
| SD | Son’s Daughter | নাতনি (পিতৃসূত্রে) | একা হলে ১/২; যদি একটি কন্যা আগে থেকেই থাকে, তবে নাতনির অংশ ১/৬; পুত্র বা দুজন কন্যা থাকলে সে বাদ পড়ে। |
| FS | Full Sister | আপন বোন | একা হলে ১/২; দুই বা ততোধিক হলে ২/৩ ভাগে ভাগাভাগি; ভাই থাকলে আসাবা; পিতা বা পুত্র থাকলে বাদ পড়ে। |
| CS | Consanguine Sister | সৎ বোন (পিতৃসূত্রে) | একা হলে ১/২; একটি আপন বোন থাকলে ১/৬; আপন ভাই বা দুই বা ততোধিক আপন বোন থাকলে বাদ। |
| US | Uterine Sibling | বৈপিত্রেয় ভাই/বোন | একা হলে ১/৬; দুই বা ততোধিক হলে মোট ১/৩; কোনো সন্তান বা পিতা/দাদা থাকলে এ শ্রেণি বাদ। |
| GF | True Grandfather | দাদা | সাধারণত ১/৬; পিতা অনুপস্থিত থাকলে তাকে প্রতিস্থাপন করেন; পিতা থাকলে বাদ। |
| GM | True Grandmother | দাদি/নানি | সাধারণত ১/৬; পিতৃকুল দাদি পিতা বা মা থাকলে বাদ; মাতৃকুল নানি মা থাকলে বাদ। |
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: কন্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ “পিভট” ওয়ারিশ। একা থাকলে সে নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত; কিন্তু পুত্র উপস্থিত থাকলে সে আসাবা হয়ে যায়। অ্যালগরিদমকে পুত্রের উপস্থিতি/অনুপস্থিতির ভিত্তিতে তার স্ট্যাটাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলাতে হবে।
আসাবা (Residuaries / আল-আসাবা)
এরা নির্ধারিত অংশপ্রাপ্তদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ পায়। কোনো নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত না থাকলে সমগ্র সম্পদ আসাবারাই পায়। অগ্রাধিকার নিকটতার ভিত্তিতে কঠোরভাবে নির্ধারিত।¹⁰
অগ্রাধিকার ধারা (অ্যালগরিদমে ক্যাসকেডিং চেক হিসেবে কোড করতে হবে):
- শ্রেণি ১: বংশধর
- পুত্র → পুত্রের পুত্র → পুত্রের পুত্রের পুত্র (নিচের ধারা)।
- শ্রেণি ২: ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ
- পিতা → পিতার পিতা → ঊর্ধ্ব ধারা।
- শ্রেণি ৩: ভাইবোন ও তাদের পুত্র
- আপন ভাই → পিতৃসূত্র ভাই → আপন ভাইয়ের পুত্র → পিতৃসূত্র ভাইয়ের পুত্র।
- শ্রেণি ৪: পিতৃকুল চাচা ও তাদের পুত্র
- আপন পিতৃকুল চাচা → সৎ পিতৃকুল চাচা → আপন চাচার পুত্র → সৎ চাচার পুত্র।
হাজব (বাধা বা বঞ্চনা) নীতি:
- নিকট আত্মীয় দূর আত্মীয়কে বঞ্চিত করে।
- পুত্র উপস্থিত থাকলে সব নাতি, ভাইবোন, চাচারা বঞ্চিত হয়।
- পিতা উপস্থিত থাকলে ভাইবোন ও চাচারা বঞ্চিত হয়।
- আপন ভাই উপস্থিত থাকলে সৎ ভাই (পিতৃসূত্রে) বঞ্চিত হয়।
বাংলা প্রেক্ষাপট: ব্যবহারকারীরা প্রায়ই “কাজিন” নিয়ে বিভ্রান্ত হন। অ্যাপকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে কেবল পিতৃকুল চাচার পুত্র (চাচাতো ভাই) আসাবা হতে পারে; মাতৃকুল মামার পুত্র (মামাতো ভাই) সাধারণত দূর-আত্মীয় (জুইল আরহাম) এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিছুই পায় না। UX ডিজাইনে এই পার্থক্য কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে।⁸
দূর-আত্মীয় (জুইল আরহাম)
এরা এমন রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়, যারা না নির্ধারিত অংশপ্রাপ্ত, না আসাবা। প্রথম দুই শ্রেণি অনুপস্থিত থাকলে (একটি-দুটি ব্যতিক্রম বাদে) এদের অধিকার সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ:
- কন্যার সন্তান (দৌহিত্র/দৌহিত্রী),
- বোনের সন্তান (ভাগ্নে/ভাগ্নী),
- মামা, খালা ইত্যাদি।²
অ্যালগরিদমিক শর্ত: সিস্টেম শুধুমাত্র তখনই এ শ্রেণির তথ্য চাইবে, যখন শেয়ারধারী ও আসাবা শ্রেণি পরীক্ষা করে দেখা যাবে যে কেউ নেই (বা শুধু স্বামী/স্ত্রী ছাড়া আর কেউ নেই)।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: MFLO ১৯৬১ ও আইনের দ্বন্দ্ব ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশ-ভিত্তিক অ্যাপের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী শর্ত। Muslim Family Laws Ordinance (MFLO) 1961 এর ৪ নম্বর ধারায় এতিম নাতি-নাতনির উত্তরাধিকার সম্পর্কে এমন আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা শাস্ত্রীয় হানাফি মতের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।¹³
দ্বন্দ্বের ধরন
- শাস্ত্রীয় হানাফি ফিকহ: পুত্র থাকলে পুত্রের পুত্র (নাতি) উত্তরাধিকার পায় না। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে যদি একজন জীবিত পুত্র এবং একজন নাতি (মৃত পুত্রের সন্তান) রেখে যায়, তাহলে জীবিত পুত্র সম্পূর্ণ সম্পদ পাবে, নাতি বঞ্চিত থাকবে।
- MFLO ১৯৬১, ধারা ৪: কোনো পুত্র বা কন্যা উত্তরাধিকার শুরু হওয়ার (succession opening) আগে মৃত্যু বরণ করলে, ঐ মৃত পুত্র বা কন্যার সন্তানেরা তাদের পিতা/মাতার প্রাপ্য অংশ “per stirpes” ভিত্তিতে পাবে; অর্থাৎ, যেন তাদের পিতা/মাতা জীবিত থাকলে যে অংশ পেতেন, সেই অংশই সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হবে।¹⁶
মূল অ্যালগরিদমের প্রবাহ (সংক্ষেপ)
১. নিট সম্পদ নির্ণয়:
[
\text{Net_Estate} = \text{Gross_Estate} – \text{Funeral_Cost} – \text{Debt}
]
২. ওসিয়তের বৈধতা যাচাই:
- সর্বোচ্চ ওসিয়ত = Net_Estate ÷ ৩
- প্রকৃত ওসিয়ত = Min(ব্যবহারকারীর ইনপুট, সর্বোচ্চ সীমা)
- বণ্টনযোগ্য মোট সম্পদ = Net_Estate – প্রকৃত ওসিয়ত
৩. MFLO ১৯৬১, ধারা ৪ প্রয়োগ:
- যদি predeceased_son বা predeceased_daughter থাকে:
- ঐ মৃত সন্তানকে ভার্চুয়াল ভাবে “জীবিত” ধরে সাধারণ ফরায়েজ হিসাব চালাতে হবে।
- তার প্রাপ্য অংশ নির্ণয় করে, সেই অংশকে নাতি-নাতনিদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
- এ অংশ Distributable_Total থেকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা হবে।
৪. শেয়ারধারী (Quota Heirs) সনাক্তকরণ:
- স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা, কন্যা ইত্যাদি আছে কি না, তা শর্তসাপেক্ষ টেবিল অনুযায়ী পরীক্ষা।
- যেমন: “সন্তান থাকলে স্ত্রী = ১/৮, না থাকলে ১/৪”।
৫. হাজব যাচাই:
- পিতা থাকলে দাদার অংশ বাতিল।
- পুত্র থাকলে ভাই/বোনের অংশ বাতিল। ইত্যাদি।
৬. অবশিষ্ট (Residue) নির্ণয়:
- Residue = Distributable_Total – শেয়ারধারীদের মোট অংশ।
৭. আসাবাদের মধ্যে Residue বণ্টন:
- সবচেয়ে নিকটবর্তী আসাবা শ্রেণি নির্ণয় (যেমন: পুত্র থাকলে সবাই বাদ)।
- পুরুষ:নারী = ২:১ অনুপাতে বণ্টন।
৮. আউল/রদ প্রয়োগ:
- যদি শেয়ারধারীদের অংশের ভগ্নাংশের যোগফল ১ এর বেশি হয় → আউল।
- যদি যোগফল ১ এর কম, Residue শূন্য এবং কোনো আসাবা না থাকে → রদ।
এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে আমি বারবার অনুভব করেছি, একটি বাংলা ইসলামি উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর আসলে কেবল একটি সফটওয়্যার নয়। এটি এমন একটি সেতু, যা একদিকে কুরআন–সুন্নাহ ও ক্লাসিক ফিকহের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে ধরে রাখে, আর অন্যদিকে আধুনিক ওয়েব প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে সাধারণ মুসলিম পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।
আমি চেয়েছি, কেউ মারা গেলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ নিয়ে পরিবার যেন অন্ধকারে হাতড়াতে না থাকে, বরং আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছ, যুক্তিসঙ্গত এবং আইনি ভাবে গ্রহণযোগ্য একটি হিসাব খুব সহজে পেয়ে যায়। এই লক্ষ্যেই আমি এই বাংলা ইসলামি উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর তৈরি করেছি, এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি নির্ভুলতা, ব্যবহার–সুবিধা এবং শিক্ষামূলক কনটেন্ট যুক্ত করে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে চাই।

























