Islam

Discover the multifaceted nature of Islam through thoughtful exploration. This section covers Islamic history, diverse cultures, theology, and contemporary perspectives, fostering a nuanced and respectful understanding of the faith.

ফিলিস্তিনিদের ঈমানী বিশ্বাসে দৃঢ়তার কবচ: বিশ্বাসের অগ্নিকুণ্ডে সহনশীলতার গল্প

 ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দীর্ঘদিনের ইতিহাস জুড়ে আমরা এক অবিচল সত্যতা উপলব্ধি করি আর তা হলঃ কঠোর কষ্ট ও নির্যাতনের মধ্যেও ফিলিস্তিনের জনগণের ঈমান অটুট থাকা, আপনজনকে হারিয়েও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা প্রদর্শন। ফিলিস্তিনের মাটিতে নিরন্তর গর্জে ওঠে গোলাবর্ষণের শব্দ যা সে দেশকে গ্রাসকারী অস্থিরতার এক নিরব সাক্ষী। কিন্তু ধ্বংসস্তুপের মাঝে থেকেই উঠে আসে আস্থার গভীর শক্তি। এটি শুধু বেঁচে থাকার গল্প নয়; এটি ফিলিস্তিনের জীবনের রেশমিতে গাঁথা এক অসাধারণ সহনশীলতার সাক্ষ্য। এই লেখাটির উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের দৃঢ় ঈমানের কারণগুলোকে বোঝার চেষ্টা করা। আমরা বোঝার চেষ্টা করব বোমা-হুমকির মধ্যে থেকেও কিভাবে ফিলিস্তিনীরা নিজেকে অবিচল রাখার...

একাধিপত্যের শিকল ভাঙ্গনে ইসলামের ভূূমিকা: মদিনায় ন্যায় ভিত্তিক এক বাজার ব্যবস্থা উত্থানের গল্প

 রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের পরে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও অন্যান্য সাধারণ ঘটনার কথা হয়তো আমাদের সকলেরই জানা। তবে মদিনায় যুদ্ধ হতো বছরের মাত্র কয়েকটি দিন বদর ও ওহুদের মত। বাকি সময় মুসলমানরা কি করত? এক কথায় উত্তর দিতে গেলে বলতে হয় ব্যবসা। ঘটনা বর্ণনা করার পূর্বে হিজরতের আগে মদিনার  পূর্বাবস্থা কি ছিল তা বর্ণনা করা জরুরী। সে সময়ে  মদিনা ও মক্কার  অর্থনীতির দিকে তাকালে  সুস্পষ্ট পার্থক্য নজরে আসে। মক্কায় ছিল কাবা, আর মক্কা ছিল আরবের কেন্দ্রে। এই দুটি কারণেই মক্কা আরবের মধ্যে অন্যতম ধনী শহর ছিল। কিন্তু মদিনা প্রধানত ছিল কৃষি নির্ভর অর্থনীতি,  যার ফলে মদিনার অর্থনীতির মক্কার তুলনায় খুবই ছোট ছিল। তবে এই অর্থনীতির ছিল অনেক বড় সমস্যা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরতের  পূর্বে মদিনা প্রধানত তিনটিগত্রে বিভক্ত ছিল-  আউস,  খাজরাজ এবং ইহুদি। এই তিনভাগের মধ্যে আউস এবং খাজরাজরা ছিল আরব আদিবাসী।  এই দুই গোত্রের মধ্যে বহু বছর ধরেই লড়াই চলে আসছিল। তাদের লড়াইয়ের কারণে শুধু জীবনই নষ্ট হয়েছে তা নয় এদের ব্যবসা ও অর্থনীতিও প্রভাব পড়েছে। গোত্রীয় যুদ্ধের কারণে যদি খাজরাজ গোত্র মদীনায় বাজার তৈরি করতো, তাহলে আউসরা সেখান থেকে কিছুই কিনতো না। আবার আউসরা বাজার তৈরি করলে খাজরাজ গোত্র সেখান থেকে কিছুই কিনতো না। তবে এই দ্বন্দ্ব থেকে সব থেকে বেশি সুবিধা লাভ করে ইহুদী গোত্র।   সুবিধাজনক অবস্থানে থাকায় ইহুদিরাই তাদের এলাকায় মদিনার প্রধান বাজার গড়ে তুলেছিল। মদিনার সবাই যেহেতু সেই বাজার থেকেই তাদের জিনিসপত্র কিনত ফলে মদিনার পুরো অর্থনীতি চলতো এই ইহুদীদের বাজারের উপর আর তারা মদিনার পুরো অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। আর তারা সব সময় এমন কিছু ষড়যন্ত্রের জাল বুনত যাতে আরবদের মধ্যে এই যুদ্ধ কখনোই শেষ না হয়। কারণ ইহুদীরা জানতো যে, এই আউস ও খাজরাজের মধ্যকার যুদ্ধেও যদি শেষ হয় তবে ইহুদীদের এক চেটিয়া অর্থনীতিও ভেঙ্গে পড়বে। মদিনায় হিজরতকালে মুহাজিরদের অবস্থা  যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, তখন শুধুমাত্র দরিদ্র সাহাবিগণই তার সাথে আসেননি, বরং কিছু অতি ধনী ব্যবসায়ীও আসেন, যার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় আবদুর রহমান বিন আউফ এবং হজরত উসমান (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ), যিনি মক্কার অন্যতম ধনী ব্যক্তি ছিলেন এবং যিনি মক্কায় সবকিছু ছেড়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)এর সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। মদিনায় হিজরতকারীদের থাকার জায়গা ছিল না, ব্যবসাও ছিল না, তাই রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা থেকে আসা মুহাজিরদের মদিনার আনসারদের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করেন। মক্কার অন্যতম ধনী ব্যক্তি আবদুর রহমান বিন আউফ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) কে মদিনার অন্যতম ধনী ব্যক্তি সা‘দ বিন রাবি‘র (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) সাথে থাকতে দেওয়া হয়। সা'দ বিন রাবি‘ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) যা কিছু ছিল, তার অর্ধেক তিনি আবদুর রহমান বিন আউফ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) কে দিতে চান। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ও আবদুর রহমান বিন আউফ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ)কে গ্রহণ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু আবদুর রহমান বিন আউফ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমার এই সব কিছুর দরকার নেই, আপনি শুধু মদিনার বাজারের পথ দেখিয়ে দিন। তিনি আবদুর রহমান বিন আউফ (رَضِيَ...

Page 2 of 2 1 2